আমাদের জীবনে বিজ্ঞানের প্রয়োজনীয়তা


আমাদের জীবনে বিজ্ঞানের প্রয়োজনীয়তা:

আসসালামু আলাইকুম। আশা করছি সবাই ভালো আছেন। আজকে আমি আপনাদের মাঝে শেয়ার করতে যাচ্ছি বিজ্ঞান সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত কিছু তথ্য। যা আমাদের সবার দৈনন্দিন জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যারা বিজ্ঞানের বিভিন্ন নতুন নতুন বিষয় বা আপডেট সম্পর্কে জানতে আগ্রহী এই পোস্টটি তাদের জন্যই।

আশাকরি এই পোস্টে আপনারা অনেক কিছু জানতে পারবেন। 


পোস্টে আপনি যে বিষয় গুলো সম্পর্কে  জানতে পাএইরবেন। বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়গুলো যেমন বিজ্ঞান কি? এবং বিজ্ঞানের সংজ্ঞা, বিজ্ঞান সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা, বিজ্ঞানের বিকাশে বিজ্ঞানীদের অবদান, দৈনন্দিন জীবনে বিজ্ঞানের ব্যবহার, চিকিৎসা ক্ষেত্রে বিজ্ঞান,সাস্থ ক্ষেত্রে বিজ্ঞান,

কৃষি ক্ষেত্রে বিজ্ঞান,বিজ্ঞানের

প্রয়োজনীয়তা,এবং বিজ্ঞানের অপকারীতা।এগুোলো জানতে চাইলে অবশ্যই আমাদের সাথেই থাকুন।


আমাদের জীবনে বিজ্ঞানের প্রয়োজনীয়তা







বিজ্ঞান শব্দের উৎপত্তি


বিজ্ঞান শব্দটি গ্রিক শব্দ সায়েন্টিয়া(scientia)থেকে ইংরেজি সায়েন্স শব্দটি এসেছে যার অর্থ জ্ঞান। 

বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান শব্দের অর্থ বিশেষ জ্ঞান।


বিজ্ঞানের সজ্ঞা


ভৌত বিশ্বের যা কিছু পর্যবেক্ষণযোগ্য, পরীক্ষণ, যাচাই-বাছাই এবং গবেষণার মাধ্যমে যে জ্ঞান অর্জিত হয় তাই বিজ্ঞান।


বিজ্ঞাননের বিকাশে বিজ্ঞানীদের অবদান 


বিজ্ঞানের আজকের অবস্থানে পৌছাতে অনেক সময় লেগেছে। অনেক বিখ্যাত কীর্তিমান বিজ্ঞানীদের কঠোর সাধনা,কঠোর প্রচেষ্টা ও নিরলস পরিশ্রম এবং মেধার ভিত্তিতেই বিজ্ঞান  আজকের অবস্থানে এসে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। বিজ্ঞানীদের বহুমাত্রিক আবিষ্কার এবং নিরলস গবেষণার মাধ্যমে বিজ্ঞান আজ সহজ থেকে সহজতর হয়েছে। বিজ্ঞানীদের একের পর এক আবিষ্কারে বিজ্ঞান পুর্ণতা লাভ করেছে। এসব আবিষ্কারের সুত্র ধরেই বিজ্ঞানী নিউটন আবিষ্কার করেন তার বিশ্ব মহাকর্ষ সূত্র। ইংলিশ গণিতবিদ চার্লস ব্যাবেজ আবিষ্কার করেন কম্পিউটারের মতো বিশ্ববিখ্যাত যন্ত্র। যা পরবর্তীতে সকল গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখতে সক্ষম হয়। 

আলেকজান্ডার গ্রাহাম্বেল আবিষ্কার করেন টেলিভিশন। যা বিনোদন জগতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে। বাঙ্গালী বিজ্ঞানী স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু তার ছারাই একস্থান থেকে অন্য স্তানে রেডিও সিগনাল পাঠাতে সক্ষম হন।এরই ধারাবাহিকতায় ইতালির বিজ্ঞানী মার্কনি রেডিও আবিষ্কার করেন। যা যোগাযোগের ক্ষেত্রে অভাবনীয় সাফল্য এনে দেয়।এরকম বহু বিখ্যাত বিখ্যাত বিজ্ঞানীদের আবিষ্কারের মাধ্যমে বিজ্ঞানের বিকাশ ঘটেছে। 


দৈনন্দিন জীবনে বিজ্ঞান 


আমাদের দৈনন্দিন জীবনে বিজ্ঞান অঙ্গাঅঙ্গী ভাবে জরিত।বিজ্ঞান ছারা আমাদের জীবনের একটি মুহুর্তও কল্পনা করা অসম্ভব। আমাদের প্রতিদিনের চলাফেরায় কাজেকর্মে বিজ্ঞানের উপর পুরোপুরি নির্ভরশীল।আমরা প্রতিদিন বিভিন্ন জিনিসপত্র যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে থাকি। যেমন আমরা প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে ব্রাশ এবং টুথপেস্ট দাত মাজি,ফেসওয়াস দিয়ে মুখ পরিস্কার করি, ব্যায়াম করি,রেডিওর মাধ্যমে গান শুনি, বিভিন্ন খবর শুনি,মোবাইল ব্যবহার করি,মোবাইল দিয়ে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে যেকোনো মানুষের সাথে যোগাযোগ করতে পারি, কম্পিউটার ব্যবহার করে নিমিষেই যেকোনো জটিল ও কঠিন হিসাব করতে পারি, শুধু তাই নয় কম্পিউটার দিয়ে গান ডাউনলোড করা সিনেমা দেখা গেমস খেলা থেকে অনেক কিছু করতে পারি।একবারও ভেবে দেখেছেন কি? এসব যন্ত্রপাতি গুলো কিভাবে তৈরি হলো। এগুোলো সবই বিজ্ঞানের আবিষ্কার। তাই বলা যায় বিজ্ঞান ছারা আমাদের জীবন একরকম অচল।


আমাদের জীবনে বিজ্ঞানের ব্যবহার


আমাদের জীবনে সকল ক্ষেত্রে বিজ্ঞানের ব্যবহার রয়েছে, যেমন চিকিৎসা ক্ষেত্রে, সাস্থ ক্ষেত্রে, কৃষি ক্ষেত্রে। নিচে এগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।


চিকিৎসা ক্ষেত্রে বিজ্ঞান 


চিকিৎসা ক্ষেত্রে বিজ্ঞান অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। বর্তমানে চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতির ফলে জটিল রোগ নির্ণয় করা সম্ভব হচ্ছে। বিভিন্ন মারাত্মক প্রাণঘাতি রোগের প্রতিষেধক আবিষ্কৃত হয়েছে। ক্যানসার রোগ সনাক্ত করে ক্যানসার কোষ ধ্বংস করা সম্ভব হচ্ছে। বিভিন্ন মহামারী সম্পর্কে আগাম সতর্কসংকেত দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। জটিল ও কঠিন রোগ সনাক্তকরণে এক্সে,আল্ট্রাসনগ্রাফি,ইসিজি,সিটিস্কেন,এমআরআই,এনজিওগ্রাফির মতো সর্বাধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার হচ্ছে। 


সাস্থ ক্ষেত্রে বিজ্ঞান


আমরা সুস্থ থাকার জন্য প্রতিদিন ব্যায়াম করি, সুষম খাবার খাই,বিভিন্ন কাজকর্ম করি। বিজ্ঞানের অবদানে ব্যায়ামের জন্য বিভিন্ন উন্নতমানের আবিস্কৃত হয়েছে। বিভিন্ন খাবারের মাননীয়ন্ত্রন সম্ভব হয়েছে। বিভিন্ন খাবারে গুনাগুন জানা সম্ভব হয়েছে। খাবার সংরক্ষণ সম্ভব হয়েছে। খাবার সংরক্ষণের বিভিন্ন পদ্ধতি আবিস্কৃত হয়েছে। এসব পদ্ধতি ব্যবহার করে বহুদিন পর্যন্ত খাবার সতেজ ও টাটকা রেখে নিরাপদ ব্যবহার করা সম্ভব হয়েছে। 


কৃষি ক্ষেত্রে বিজ্ঞান 


কৃষি ক্ষেত্রে বিজ্ঞান অনেক উন্নতি সাধন করেছে। বর্তমানে কৃষিতে বিজ্ঞানের ছোয়ায় আগের ছেয়ে বহুগুণে বেশি ফসল উৎপাদন করতে পারছে।ফসলে রোগবালাই থেকে ফসলকে রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে। উন্নতমানের কীটনাশক দ্বারা পোকামাকড় থেকে ফসল রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে ফলে উৎপাদন বেড়েছে। বিভিন্ন দুর্যোগ যেমন,বন্যা,খরা,অতিবৃষ্টি,ঘুর্ণিঝর,জলচ্ছাসের আগাম সতর্কসংকেত দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। ফলে ফসলকে ক্ষতির মুখ থেকে রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে। স্বল্প সময়ে চাষযোগ্য উচ্চফলনশীল ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন ফসলের জাত আবিষ্কার হয়েছে। 


আমাদের জীবনে বিজ্ঞানের প্রয়োজনীয়তা


আমাদের জীবনে বিজ্ঞানের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। বিজ্ঞান ছারা আমাদের বেচে থাকা অসম্ভব। বিজ্ঞানের কারনে আজ পুরো পৃথিবীটা আমাদের হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। বিজ্ঞানের কল্যাণে আজ আমরা পৃথিবীর যেকোনো স্তানে বসে মোবাইল কম্পিউটার ব্যবহার করে যেকোনো মানুষের সাথে যোগাযোগ করতে পারি। সরাসরি অডিও বা ভিডিও কলের মাধ্যমে একজন আরেকজনের সঙ্গে কথা বলতে পারি, চ্যাটিং করতে পারি দেখতে পারি। বিভিন্ন সোস্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত তাৎক্ষণিক আদান-প্রদান করা সম্ভব হয়েছে। পরিবহনের ক্ষেত্রে বিজ্ঞান আমাদের দুরত্ব একেবারে কমিয়ে দিয়েছে। দ্রুতগতির যানবাহন আবিস্কৃত হয়েছে। এতে স্বল্প সময়ে আমরা এক জায়গা থেকে অন্য জয়গায় যেতে পারি। বিজ্ঞানের উন্নতির ফলে দ্রুতগতির বুলেট ট্রেন,শব্দের থেকে বেশি গতিসম্পন্ন উড়োজাহাজ আবিষ্কৃত হয়েছে। যার ফলে যাতায়াত করা থেকে শুরু করে কৃষিপন্য বানিজ্যিক পণ্য খুব সহজে স্বল্প সময়ে পরিবহন করতে পারি এতে আমাদের সময় ও শ্রম দুটোই বাচে।বিনোদন জগতে বিজ্ঞান এনেছে নতুন মাত্রা মোবাইল,ট্যাবলেট,ল্যাপটপ, কম্পিউটারের মাধ্যমে সিনেমা মুভি দেখতে পারি। বিভিন্ন মোবাইল গেম,কম্পিউটার গেম,অনলাইনেও অন্যদের সাথে গেম খেলতে পারি।টেলিভিশনের মাধ্যমে বিনোদনমুলোক ভিডিও গান সিরিয়াল টকশো ইত্যাদি দেখতে পারি। বিজ্ঞান না থাকলে আমাদের জীবন অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পরত।বিজ্ঞান না থাকলে আমরা সহজে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে পারতাম না।জরুরি প্রয়োজনে একে অন্যের সাথে যোগাযোগ করতে পারতাম না। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের জোগান এবং বিপণন বিঘ্নিত হত।বিজ্ঞান না থাকলে আমরা ইন্টারনেট সেবা থেকে বঞ্চিত হতাম। বিজ্ঞানের এক বিষ্ময়কর আবিষ্কার বিদ্যুৎ। বিদ্যুৎ ছারা গোটা দুনিয়া অচল।বিজ্ঞান না থাকলে আমরা এই গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ সেবা থেকেও বঞ্চিত হতাম।তাই বলা যায় আমাদের জীবনে বিজ্ঞানের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। 


বিজ্ঞানের অপকারীতা


বিজ্ঞানের হাজার হাজার উপকারীতা থাকলেও কিছু কিছু ক্ষতিকর দিকও রয়েছে। যেমন, বিজ্ঞানের উন্নতির ফলে বিভিন্ন প্রতিষ্টানের কাজ এখন কম্পিউটার এবং রোবট দিয়ে করানো হচ্ছে মানুষের জায়গা দখল করছে রোবট।ফলে হাজার হাজার মানুষ বেকারে পরিণত হয়েছে। দিন দিন পরিবেশ দুষণ বারছে। গবেষণাগারের বর্জে থাকা বিষাক্ত কেমিক্যাল পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি স্বরুপ। বিশেষ করে মাছ সহ জলজ প্রাণিদের জন্য ক্ষতিকর। বিজ্ঞানের উন্নতির সাথে সাথে বেড়েছে নগরায়ন, কলকারখানা, ইটভাটা,চলছে বৃক্ষনিধনের মহোৎসব।বনজঙ্গল কেটে তৈরি হচ্ছে কৃষিজমি। ফলে বাতাসে বিষাক্ত  কার্বনডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার ফল হিসাবে মেরু অঞ্চলের বরফ গলে যাচ্ছে। এতে সমুদ্রপৃষ্টের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার ফলে নিচু অঞ্চলের দেশগুলো অচিরেই পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। তাই সবকিছু বিবেচনা করে বলা যায় বিজ্ঞানের হাজার হাজার উপকার থাকলেও কিছু অপকারও রয়েছে। 


বিজ্ঞানের অগ্রগতির মুলে কাদের অবদান সবচেয়ে বেশি? 

বিজ্ঞানীদের।


মহাকর্ষ সূত্রের আবিষ্কারক কে?

বিজ্ঞানী নিউটন। 


কম্পিউটার আবিষ্কার করেন কোন বিজ্ঞানী?

বিজ্ঞানী চার্লস ব্যাবেজ।


ইংরেজি সায়েন্স শব্দ কোন ভাষা থেকে এসেছে? 

গ্রিক ভাষা থেকে। 


শেষ কথা: 

বিজ্ঞান ও আমাদের জীবন একে অপরের সাথে সম্পর্কিত।বর্তমান মানবসভ্যতার মুলে রয়েছে বিজ্ঞানের অবদান। বিজ্ঞান আমাদের জন্য খুলে দিয়েছে বিশাল সম্ভাবনার দ্বার

আমরা এখন বসে বিশ্বের বড় বড় কোম্পানিতে চাকরি করতে পারি। ফ্রিল্যান্সিং করতে পারি আউটসোর্সিং করতে পারি। তাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারি মুহুর্তের মধ্যে তথ্য উপাত্ত আদান-প্রদান করতে পারি। এসবই সম্ভব হয়েছে বিজ্ঞানের কল্যাণে

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post